
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের যত অভিযোগ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। সংবিধান লঙ্ঘন, শপথ ভঙ্গ, মৌলিক অধিকার হরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতিসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো সংবিধানের বিধান উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত আদেশ জারি করা। অভিযোগ রয়েছে, সংসদের অনুমোদন ছাড়াই সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেখানে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংশোধনী বিল পাসের বিধান রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গণভোট আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণভোটসংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি ও গণভোট আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান সংবিধানে গণভোটের স্পষ্ট বিধান না থাকায় এ ধরনের উদ্যোগ সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে।
শপথ ভঙ্গের অভিযোগ
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ড. ইউনূস সংবিধান রক্ষা, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ নেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তার সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণ হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শপথের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ
সংবিধানের ২৭ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের বিভিন্ন মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকারের সময় এসব অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিনা বিচারে আটক, মব সন্ত্রাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো ঘটনায় নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাগত স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়েও অভিযোগ
সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন এবং সংসদে পেশ করার বিধান রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা করা হলেও সেগুলোর যথাযথ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন, গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, ডিজিটাল ওয়ালেট পরিচালনার অনুমতি এবং গ্রামীণ ব্যাংকের করসংক্রান্ত সুবিধা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজের বা নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি সুবিধা নেওয়া হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা কয়েকটি মামলায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই খালাস বা মামলা বাতিলের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, এসব ঘটনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
দুর্নীতির অভিযোগ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ড. ইউনূস ও তার সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের মতে, নিজের বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির আওতায় তদন্তযোগ্য হতে পারে।
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ
হামের টিকাদান কার্যক্রমে গাফিলতির কারণে শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগও ড. ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে থাকলে বিষয়টি ফৌজদারি তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নয়, বরং একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে প্রতিটি অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের কোনটি সত্য, কোনটি আইনগতভাবে টেকসই এবং কোনটির ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—তা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বিষয়।
নিউজ সূত্র: কালের কণ্ঠ












Design and Development by : webnewsdesign.com