সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / রাজনীতি
৭:৩৫ পিএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘গুপ্তদের ভেতরে স্বৈরাচার লুকিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, প্রশ্ন তারেক রহমানের

‘গুপ্তদের ভেতরে স্বৈরাচার লুকিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, প্রশ্ন তারেক রহমানের

গুপ্তদের ভেতরে স্বৈরাচার লুকিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, প্রশ্ন তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মিনিটে পড়ুন |

স্বৈরাচারের সময়ে যারা গুপ্তবেশে লুকিয়ে ছিল, তাদের ভেতরে আবারও স্বৈরাচারী শক্তি লুকিয়ে থেকে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, স্বৈরাচারের সময় একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। পরে তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে বিষয়টি স্বীকার করেছে। বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আর সেই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে স্বৈরাচারী শক্তি আবারও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অরাজকতা করলে আইনি ব্যবস্থা

তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখবে এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা সর্বোচ্চভাবে অনুসরণ করবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে দেশের আইনে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে।

‘সরকার হিসেবে এবং শুধু সরকার হিসেবে নয়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—প্রত্যেকের নিজের সীমার মধ্যে থাকা দরকার,’ বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

গুপ্তদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গুপ্ত তারা যদি সেই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করে, তাহলে বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। কয়েকদিন আগে গুপ্তদের একজন নেতা বলেছেন, এতে তাদের আপত্তি নেই। তাহলে দেখা যাচ্ছে, একজন আরেকজনকে বিভিন্নভাবে গুপ্ত রাখার চেষ্টা করছে।

জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে এবং কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

জ্বালানি সংকটে জনগণের কাছে ক্ষমা

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ কষ্টে আছে—সরকার তা অস্বীকার করছে না। এ জন্য দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।

তিনি বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, কীভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশকে আমদানিনির্ভর করে দেওয়া হয়েছে—দেশবাসী তা দেখেছে। এ কারণেই নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতেও সংকটকালীন সময়ে জনগণের পাশে থেকে দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে। এবারও জনগণের প্রত্যাশা ও বিশ্বাসকে সামনে রেখে কাজ করছে দলটি।

‘ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহু সমস্যা পেয়েছি’

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি ভঙ্গুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বহু সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার।

তার ভাষ্য, এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি জ্বালানি সংকট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে থাকা মানুষের সমস্যা সমাধানে সরকার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে যেন বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের মানুষ আবারও জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে থাকা সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানার মালিকদের কাছেও দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

‘গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই’

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দলের বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকেই স্বাধীনভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার কখনো দাবি করেনি যে দেশে কোনো সমস্যা নেই। বরং স্বৈরাচারী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি

নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের সামনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জেমসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামাঞ্চলে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

‘জনগণের ওপর চাপ কমাতেই জ্বালানি নীতি’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার দীর্ঘদিন পর্যন্ত জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়নি। বরং বেশ কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।

‘বিএনপিই সুনির্দিষ্ট ম্যানিফেস্টো দিয়েছে’

তারেক রহমান দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করেছে। অন্য অনেক রাজনৈতিক দল সেভাবে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট মোকাবিলায় বিএনপি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে সুফল দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।

তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিবছর অন্তত পাঁচটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারের বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনাও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন

শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার সেই কর্মসূচি আবারও চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

দলকে বিব্রত করে এমন কাজ না করার আহ্বান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে দল ও সাধারণ মানুষকে বিব্রত করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সবাইকে এমপি বা মন্ত্রী করা সম্ভব নয়। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী দীর্ঘদিন কর্মী হিসেবেই থাকবেন। তবে দল ও দেশ গঠনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আহত ও নিহত বিএনপির নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম