
স্বামীকে অমূলক সন্দেহ করলে যে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে, জানালেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম
দাম্পত্য জীবনে অমূলক সন্দেহকে মারাত্মক ক্ষতিকর এক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রখ্যাত ইসলামি আলোচক, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম। তার মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া স্বামীকে অযথা সন্দেহ করলে শুধু পারিবারিক সুখ-শান্তিই নষ্ট হয় না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় ক্ষেত্রেই পড়তে পারে।
সম্প্রতি ‘রিসালাতুল ইসলাম বিডি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে অহেতুক সন্দেহের কারণে দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে যেসব ক্ষতি হতে পারে, সেগুলো তুলে ধরেন তিনি।
পরিবারে অশান্তি ডেকে আনা:
মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, স্বামী বাইরে থেকে বাড়ি ফিরতে সামান্য দেরি করলেই তাকে ‘কোথায় ছিলে?’, ‘কেন দেরি হলো?’ কিংবা ‘কার সঙ্গে কথা বলছিলে?’—এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়। অথচ চাকরি বা অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেরি হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই এভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা পরিবারে অশান্তি তৈরি করে।
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে:
সন্দেহকে মারাত্মক জীবাণুর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, কারও মনে একবার অমূলক সন্দেহ বাসা বাঁধলে তা ধীরে ধীরে তার মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে। একসময় সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি নিজেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
পাপ ও মিথ্যার দিকে ঠেলে দেয়:
ইসলামে অমূলক ধারণা ও কুধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ধারণা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসেও অহেতুক সন্দেহ ও জল্পনা-কল্পনা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে কোনো প্রমাণ ছাড়াই স্বামী বা স্ত্রীকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা করা এবং তার ভিত্তিতে অভিযোগ তোলা গুনাহের কারণ হতে পারে।
দাম্পত্যের ভালোবাসা ও বিশ্বাস নষ্ট করে:
একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের অন্যতম ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। কিন্তু অমূলক সন্দেহ ধীরে ধীরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আস্থা ও ভালোবাসাকে দুর্বল করে দেয়। একপর্যায়ে ছোটখাটো বিষয়ও বড় ধরনের ঝগড়া ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আখেরাতেও জবাবদিহির বিষয় হতে পারে:
মাওলানা আবুল বাশার সতর্ক করে বলেন, অহেতুক সন্দেহ শুধু দুনিয়ার শান্তি নষ্ট করে না; এর কারণে মানুষ গুনাহের কাজেও জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি পরকালীন জবাবদিহির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই নয়, শ্বশুর-শাশুড়িরাও যদি পুত্রবধূকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহের চোখে দেখেন, সেটিও অন্যায় ও পাপকর্ম হতে পারে।
পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখতে তাই অমূলক সন্দেহ, কুধারণা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে সবাইকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন এই ইসলামি আলোচক।
সূত্র: আমার দেশ










Design and Development by : webnewsdesign.com