সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / রাজনীতি
২:৩১ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবিটি কি এআই দিয়ে তৈরি?একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবি কেন প্রায় একইরকম

ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবিটি কি এআই দিয়ে তৈরি?একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবি কেন প্রায় একইরকম

ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবিটি কি এআই দিয়ে তৈরি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। বিশেষ করে ট্রাম্পের দাঁড়ানোর ভঙ্গি ও ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখার ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

তবে ছবিটি যাচাই করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক এআই শনাক্তকারী টুলে ছবিটিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদনার নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কেন ট্রাম্পের পোজ এতটা একই রকম?

দ্য ডিসেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা ছবিতেই নয়—কসোভো, আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও রোমানিয়ার নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবিতেও ট্রাম্পকে প্রায় একই ভঙ্গিতে দেখা যায়।

এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নির্দিষ্ট একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাদের সহধর্মিণীরা একে একে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। ফলে একই পটভূমি, ক্যামেরার অবস্থান এবং ট্রাম্পের নির্দিষ্ট অবস্থানের কারণে ছবিগুলোতে তার ভঙ্গি অনেকটা একই রকম দেখা যায়।

কসোভোর সংবাদমাধ্যম কোহার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট আলোকচিত্রীরাই ছবি তোলার অনুমতি পেয়েছিলেন। পরে ছবিগুলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দাবি ছড়িয়েছিল?

তারেক রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিটি প্রকাশের পর কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, ছবিটি আসল নয়। কেউ কেউ এমনও দাবি করেন যে, তারেক রহমান ট্রাম্পের ‘ফটো কাটআউট’ বা প্রতিকৃতির সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি যাচাই হয়েছে কি না জানতে চান।

অন্যদিকে, মীর জাহান নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটিকে সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত বলে দাবি করা হয়।

সব ছবিতেই কি ট্রাম্প একইভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন?

যাচাইয়ে দেখা যায়, বিষয়টি এতটা সরল নয়। অনুষ্ঠানের অন্যান্য ছবিতে ট্রাম্পকে ভিন্ন ভঙ্গিতেও দেখা গেছে।

কসোভোর ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান হিব্রিড ডট ইনফো জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তোলা ছবির উদাহরণ দিয়েছে। শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ছবিতে ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখতে দেখা গেলেও অন্য একটি ছবিতে তাকে করমর্দন করতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ট্রাম্পের অঙ্গভঙ্গি অপরিবর্তিত ছিল—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

হিব্রিড ডট ইনফোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাইভ মডারেশন ব্যবহার করে পরীক্ষায় আলোচিত বলকান নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিগুলোকে এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি।

রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের ছবিতেও উঠেছিল একই প্রশ্ন

ট্রাম্পের সঙ্গে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানের একটি ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। ২ অক্টোবর ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটিকেও এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়।

পরে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি নয়। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শুধু হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল আলোকচিত্রীর প্রবেশাধিকার ছিল এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের পর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের কাছে একসঙ্গে পাঠানো হয়।

এ কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত হতে পারে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তাহলে তারেক রহমানের ছবিটি আসল কি না?

দ্য ডিসেন্টের যাচাই অনুযায়ী, তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের মূল ছবিতে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ট্রাম্পের ‘কার্ডবোর্ড কাটআউট’-এর ছবি আলাদা বিষয়। যাচাইয়ে দেখা গেছে, সেটি মূল ছবি নয়; বরং ওপেনএআই ব্যবহার করে তৈরি একটি কৃত্রিম ছবি।

অর্থাৎ, তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা আসল ছবিতে ট্রাম্পের পোজ অন্য কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে তোলা ছবির সঙ্গে মিল থাকলেও শুধু একই ধরনের পোজকে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। বরং একই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে একই ফটোগ্রাফি প্রক্রিয়ায় ছবি তোলার কারণেই এমন মিল দেখা যেতে পারে বলে যাচাইয়ে উঠে এসেছে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুধু দৃশ্যগত মিলের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য উৎস ও ফ্যাক্টচেকের তথ্য যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।

-দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিবেদন

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম