
‘আমাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, কারণ অনেকে ভয় পায়’— মন্তব্য সাকিব আল হাসানের
‘আমাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, কারণ অনেকে ভয় পায়’— মন্তব্য সাকিব আল হাসানের
বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেছেন, দেশে ফেরার সুযোগ পেলে সেটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। আর সেই কারণেই কিছু মানুষ তাকে দেশে ফিরতে দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
সাকিব জানান, তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান। তবে কবে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
তিনি বলেন, “আমি খুব বেশি খবর অনুসরণ করি না। তাই ঠিক বলতে পারছি না। আশা করি দ্রুতই ফিরতে পারব। সেটা পরের মাসেও হতে পারে, তার পরের মাসেও হতে পারে, নভেম্বর বা ডিসেম্বরে হতে পারে। যত তাড়াতাড়ি ফিরতে পারি, ততই আমার জন্য ভালো।”
বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সাকিব। শিগগিরই তিনি নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স দলের হয়ে মাঠে নামবেন। যদিও ২০২৪ সালের জুলাই থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার জন্য একবার দুবাই পর্যন্ত এলেও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।
বাংলাদেশের হয়ে শেষ টেস্ট ম্যাচ মিরপুরে খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরতে না পারায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে নিজের বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে স্বপ্ন এখনো ছাড়েননি তিনি। সাকিবের বিশ্বাস, মিরপুরে তার শেষ ম্যাচ আয়োজন করা গেলে সেটি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশে ফিরলে পুরো ঢাকা ‘ব্ল্যাকআউট’ হয়ে যাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, “যদি এমন কিছু হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের স্পোর্টসের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। হয়তো অনেকে এই বিষয়টি নিয়েই ভয় পায়। আমার ধারণা, সেই কারণেই আমাকে দেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।”
জাতীয় দলের জার্সিতে দুই বছরের বেশি সময় ধরে মাঠে দেখা যায়নি সাকিবকে। যদিও তিনি এখনো টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও রয়েছে তার।
তবে সাকিব মনে করেন, তার খেলার ইচ্ছার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় দলে তাকে প্রয়োজন আছে কি না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচক ও অধিনায়কের।
তার ভাষায়, “আমি খেলতে চাই কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ দলের আমাকে দরকার আছে কি না। সেটা নির্বাচক ও অধিনায়কই ভালো জানেন। তারা যদি মনে করেন আমার প্রয়োজন আছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারেন। এখন এসব অনেক পরের বিষয়।”










Design and Development by : webnewsdesign.com