
‘গোপালী’ পুলিশের তালিকা চাইলেন এমপি মান্নান
অভিযোগ উঠেছে, নিজের ছেলে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের জেরে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এমপি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে মান্নান দাবি করেছেন, তিনি জেলার সব পুলিশের বিষয়েই কথা বলেছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা পুলিশ সদস্যদের তালিকা চান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
সভায় তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ‘গোপালী’ দিয়ে ভরে গিয়েছিল। এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেফিরে একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘গোপালীরা’ নারায়ণগঞ্জের মানুষের ভালো চাইবে না।
এ সময় তিনি বলেন, ‘গোপালীদের লিস্ট চাই আমরা। কার বাড়ি কোন দেশে, নারায়ণগঞ্জের কোন থানায় কে আছে—এটার লিস্ট চাই।’
তার এমন বক্তব্যের ভিডিও ও বক্তব্যের অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি কোথায়, সেটি মূল বিষয় নয়। পুলিশ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আইনবহির্ভূতভাবে কাজ করলে সংসদ সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এভাবে বিষয়টি তুলে ধরা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।
কাজলের অভিযোগ, নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতেই হয়তো এমপি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
ছেলেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করেছিল পুলিশ
গত ২১ জুন সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে পুলিশ আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে সজীবকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নদীপথে চাঁদাবাজির অভিযোগও এমপির
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নদীপথে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
তিনি অভিযোগ করেন, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদী থেকে বালুবাহী বাল্কহেড নারায়ণগঞ্জে প্রবেশের আগেই চাঁদা আদায় শুরু হয়। মোবাইলের মাধ্যমে চাঁদা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যা বললেন এমপি মান্নান
বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জেলার সব পুলিশ প্রসঙ্গে এ কথা বলেছি। শুধু সোনারগাঁয়ের পুলিশ প্রসঙ্গে বলিনি। আমি তালিকা চেয়েছি। তালিকা দেখে পরে আবার কথা বলব।’
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, তারা সংসদ সদস্যের বক্তব্য শুনেছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি গোপালগঞ্জে নয়। শুধু একজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপালগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।










Design and Development by : webnewsdesign.com