
২৩ চুরিতে ২৩ মামলা, নেই গ্রেপ্তার
দেড় মাসে ২৩ ট্রান্সফরমার চুরি, অন্ধকারে মতলব উত্তর
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দেড় মাসে ২৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো বিদ্যুৎ গ্রাহক। প্রতিটি ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব ট্রান্সফরমার চুরি হয়। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
উপজেলার নাউরী, ফৈলাকান্দি, দুর্গাপুর, দাসের বাজার, দেওয়ানজিকান্দি ও জীবগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে ট্রান্সফরমার চুরি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার তার খুলে নিয়ে শুধু খোলস ফেলে যাচ্ছে চোরেরা।
২৩ চুরিতে ২৩ মামলা, নেই গ্রেপ্তার
মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, দেড় মাসে ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত তিন-চারটি ট্রান্সফরমার ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ওসি বলেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক ছাড়া ট্রান্সফরমার চুরি করা কঠিন। তাঁর দাবি, চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তবে পুলিশের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান।
লোডশেডিংয়ের সুযোগে চুরি
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গরমের সময় উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৯ থেকে ১১ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।
আর এই লোডশেডিংয়ের সময় রাতের অন্ধকারে চোরেরা ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতিটি ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। চুরি বন্ধে একাধিকবার সচেতনতামূলক সভা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
ট্রান্সফরমার চুরি, বিদ্যুৎহীন অর্ধশত পরিবার
সর্বশেষ দেওয়ানজিকান্দি এলাকায় এক রাতেই দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির পর বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হলেও এখনো নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের ধারণা, চুরির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
একদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং, অন্যদিকে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি—দুই সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মতলব উত্তরের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।











Design and Development by : webnewsdesign.com