
নামাজে ওঠা-বসার তাকবিরগুলো কখন আদায় করবেন?
প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। নামাজ শুধু আল্লাহর ইবাদতই নয়, এটি মানুষকে অশ্লীলতা ও অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।’
—সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৪
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো এবং ফজরের নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’
—সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৭৮
এ ছাড়া আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’
—সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫
তবে নামাজ আদায়ের সময় অনেক মুসল্লির মনে একটি প্রশ্ন থাকে—রুকুতে যাওয়ার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ কখন বলা উচিত? একইভাবে রুকু থেকে ওঠার সময় ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ কখন বলতে হবে?
ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।
রাজধানীর জামিয়া ইমাম বুখারির উস্তাযুল ইফতা মাওলানা সাইদুজ্জামান কাসেমি এক বিশ্লেষণে জানান, নামাজে এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার সময় তাকবির বলার সুন্নত পদ্ধতি হলো—আগের রোকন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী রোকনে যাওয়ার সময় তাকবির শুরু করা এবং পরবর্তী রোকনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ করা।
অর্থাৎ, রুকুতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুসল্লি যখন দাঁড়ানো থেকে নিচের দিকে ঝুঁকতে শুরু করবেন, তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলা শুরু করবেন এবং রুকুতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকবির শেষ করবেন।
একইভাবে রুকু থেকে ওঠার সময় ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। রুকু থেকে ওঠা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তা বলা শুরু করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সময় শেষ করা সুন্নত পদ্ধতি।
ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোপুরি রুকুতে পৌঁছানোর পর তাকবির শুরু করা কিংবা দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলা সঠিক পদ্ধতি নয়। ফিকহের কিতাবগুলোতে এভাবে পড়াকে মাকরুহ বলা হয়েছে।
ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে, রুকুতে যাওয়ার সময় ঝুঁকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির শুরু করতে হবে এবং রুকুতে স্থির হওয়ার সময় তা শেষ করতে হবে।
ফিকহের আরেকটি গ্রন্থে বলা হয়েছে, নামাজের এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার সময়ের নির্ধারিত জিকির বা তাকবির সম্পূর্ণভাবে এক রোকন শেষ হওয়ার পর বলা উচিত নয়।
জামাতে নামাজে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি
জামাতে নামাজ আদায়ের সময় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল করা প্রয়োজন। কারণ ইমাম যদি রুকুতে পৌঁছানোর অনেক আগেই তাকবির শেষ করে ফেলেন অথবা রুকুতে পৌঁছার পর তাকবির শুরু করেন, তাহলে পেছনের মুসল্লিদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ইমামের তাকবির শুনে অনেক মুসল্লি রুকুতে যাওয়া বা ওঠার সময় নির্ধারণ করেন। তাই ইমামদের উচিত, নামাজের প্রতিটি রোকন পরিবর্তনের সময় তাকবির যথাযথ নিয়মে আদায় করা।
সুতরাং নামাজের সৌন্দর্য ও সুন্নত পদ্ধতি বজায় রাখতে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় তাকবিরের সময়টি সঠিকভাবে খেয়াল করা জরুরি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।









Design and Development by : webnewsdesign.com