
তীব্র গরমে রাজশাহীতে ঘন ঘন লোডশেডিং, সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। এর মধ্যেই বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগর ও গ্রামের মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প বন্ধ থাকছে, ফলে বোরো ধান নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষতির আশঙ্কা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর প্রায় সব উপজেলাতেই গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের যাওয়া-আসা বেড়েছে। দিনের বেলায় কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। মাগরিবের নামাজের পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি তারাবির সময়ও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। রাত ১১টার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্তও কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
সেহরির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়ছেন রোজাদাররাও। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে তীব্র রোদ ও গরমে বোরো খেতের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বেড়েছে সেচের চাহিদা। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো না থাকায় সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গোদাগাড়ীর কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। বোরো ধান বাঁচাতে অন্তত ২৪ ঘণ্টায় একবার জমিতে পানি দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে তিন-চার দিনেও অনেক সময় পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া আরও গরম হলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহীতে নিয়মিতভাবে বড় ধরনের লোডশেডিং হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় এক থেকে দুই ঘণ্টা করে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর প্রধান প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, রাজশাহী বিভাগে বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ৩৮৮ মেগাওয়াট। কোনো সময় সরবরাহ কমে গেলে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গরমের কারণে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও কমে আসবে বলে জানান তিনি।
তবে গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।












Design and Development by : webnewsdesign.com