সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / বাংলাদেশ
১১:১৪ এএম, ৯ আগস্ট ২০২৬

ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেললাইনে রেহানা

ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেললাইনে রেহানা

৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার দিন কাটে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

দারিদ্র্য মানুষকে কতটা অসহায় করে দিতে পারে, বাগেরহাটের রামপালের রেহানা খাতুন যেন তারই এক হৃদয়বিদারক উদাহরণ। দুই সন্তানকে নিয়ে মাথা গোঁজার সামান্য আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন তিনি। এখন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে একটি অর্ধনির্মিত বাঁশের কাঠামোর নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে তার।

সংসারের অভাব এতটাই তীব্র যে, মাত্র ৫০০ টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে রেহানাকে।

রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। অসহায় রেহানা ও তার দুই সন্তানের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন রেহানা। কিন্তু দীর্ঘদিন ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। পরে সন্তানদের নিয়ে বাধ্য হয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জায়গায় আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার দুরবস্থা দেখে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেটি আর সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

অর্ধনির্মিত সেই ঘরে এখনো নেই টিনের ছাউনি কিংবা চারপাশের বেড়া। ফলে তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে রেহানাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তার মাথায় চুল না দেখে কারণ জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়ে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধের জন্য নিজের চুল বিক্রি করেছেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, ‘রেহানার জীবন অত্যন্ত কষ্টের। দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটছে তার। সরকারের কাছে আবেদন করা হবে, যাতে দ্রুত পরিবারটির জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।’

স্থানীয় মহিদুল ইসলাম জানান, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করা গেলেই সেটিকে বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে অন্তত দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকার সুযোগ পাবেন রেহানা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি অসম্পূর্ণ বাঁশের কাঠামো। সেটিকেই ঘর বানিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন এখনো পূর্ণতা পায়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি সরকারের কাছে একটু নিরাপদে থাকার জন্য সহায়তার আকুতি জানাচ্ছি।’

এলাকাবাসীর দাবি, রেহানা ও তার দুই সন্তানের দুর্দশা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাদের জন্য একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করা হোক। একটি নিরাপদ আশ্রয়ই হয়তো এই অসহায় মা ও তার সন্তানদের জীবনে ফিরিয়ে দিতে পারে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম