
সূরা আশ-শুআ’রার শিক্ষা: আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া নয়
সূরা আশ-শুআ’রার শিক্ষা: আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া নয়
আজকের কুরআন তিলাওয়াতের সূরা হলো পবিত্র কুরআনের ২৬তম সূরা আশ-শুআ’রা। মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরাটিতে মোট ২২৭টি আয়াত রয়েছে। এতে হজরত মুসা (আ.), ইবরাহিম (আ.), নূহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.) ও লুত (আ.)-এর দাওয়াত, তাদের জাতির প্রতিক্রিয়া এবং অবাধ্যদের পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে।
এই সূরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর তাওহিদের আহ্বানে। তিনি যখন দেখলেন, তার সম্প্রদায়ের মানুষ মূর্তিপূজায় নিমগ্ন, তখন তাদের প্রশ্ন করেন—
“তোমরা কীসের ইবাদত করছ, কখনো কি ভেবে দেখেছ?”
(সূরা আশ-শুআ’রা, আয়াত ৭৫-এর অর্থ)
এরপর তিনি ঘোষণা করেন—
“তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যাদের উপাসনা করেছ, তারা সবাই আমার শত্রু; তবে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ ছাড়া।”
এরপর হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহ তাআলার অসীম অনুগ্রহ ও ক্ষমতার কথা স্মরণ করে বলেন—
তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সঠিক পথ দেখিয়েছেন।
তিনিই আমাকে আহার ও পানীয় দান করেন।
আমি অসুস্থ হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দেন।
তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন, আবার পুনরুত্থিত করবেন।
আর আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তিনিই আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন।
(সূরা আশ-শুআ’রা, আয়াত ৭৮–৮২-এর অর্থ)
এই আয়াতগুলো প্রত্যেক মুমিনের জন্য আশার বার্তা বহন করে। আল্লাহর প্রিয় নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-ও কিয়ামতের দিন আল্লাহর ক্ষমার প্রত্যাশা করেছেন। এটি আমাদের শিক্ষা দেয়, মানুষ যত ভুলই করুক না কেন, আন্তরিক তাওবা করলে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখলে কখনো হতাশ হওয়ার কারণ নেই।
গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়। তাই একজন ঈমানদারের উচিত আল্লাহর কাছে তাওবা করা, সৎকর্মে অবিচল থাকা এবং সব সময় তাঁর ক্ষমা ও রহমতের আশা রাখা। কারণ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং তাঁর ক্ষমার আশায় জীবন পরিচালনাই একজন বিশ্বাসীর প্রকৃত পথ।












Design and Development by : webnewsdesign.com