
স্ত্রীর কবর খননের সময় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামীর মরদেহ অক্ষত! এলাকায় চাঞ্চল্য
স্ত্রীর কবর খননের সময় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামীর মরদেহ অক্ষত! এলাকায় চাঞ্চল্য
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এক ব্যতিক্রমী ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্ত্রীর কবর খননের সময় প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩১ জুলাই)। ওই দিন রমজান আলীর স্ত্রী মারা গেলে স্বামীর কবরের পাশে তার দাফনের জন্য নতুন কবর খনন শুরু হয়। এ সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন। খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলী মারা যান। জীবদ্দশায় তিনি একজন ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং চাল-আটার ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সেভাবেই রেখে পাশেই তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে উত্তর হাওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, কোনো মুসলমানের মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলে তার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করা উচিত। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার যদি গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকে, সেটিও গ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত করার প্রয়োজন নেই। আবার কবরে কারও হাড়গোড় পাওয়া গেলেও তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা ঠিক নয়। আল্লাহ যেন সবাইকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে চলার তাওফিক দেন।
তবে প্রায় ২৪ বছর পর মরদেহ অক্ষত থাকার দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও এর স্বাধীন বা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।










Design and Development by : webnewsdesign.com