
৬ দফা না মানলে সরকার পতনের একদফার হুঁশিয়ারি ১১ দলের
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ থেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতারা বলেছেন, ঘোষিত ৬ দফা দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের জন্য এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে কর্মসূচি এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এক কঠিন সংকটের সময় পার করছে। বিএনপি বলেছিল নির্বাচনের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। তারা বলেছিল বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার বোঝে না। আজ তাদের সরকার গঠনের ছয় মাস। এখন বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, কাজ নেই। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ সামাল দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।’
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘একবার তারেক রহমানের রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি মহাসচিব ফখরুল সাহেব বলেছেন—গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে। আমরাও ফখরুল সাহেবের কথাই বলি।’
১১ দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘রিজওয়ানার মতো কিছু খারাপ মানুষ ছিল বলেই আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারেন নাই। তারা নামাজ পড়ে না, আল্লাহ-খোদার ভয় নেই। এজন্যই তারা আপনাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়নি।’
অলি আহমদ বলেন, ‘এখন মানুষ মুখে মুখে বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সরকারের পতন হবে। আমি বলেছিলাম হাসিনাকে আগেই চলে যেতে, না হলে এক কাপড়ে যেতে হবে। দেখেছেন, এক কাপড়েই গেছে। তারেক রহমানকেও হুঁশিয়ার করে দিলাম।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারকে ছয় দফা দাবি জানিয়েছি। দাবি আদায় না হলে সরকার পতনের এক দফা দেওয়া হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘১৯৯৪ সালে সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল। কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, হয়েছে সিলেট। এরপর ফ্যাসিবাদী সরকার বলেছিল কুমিল্লায় বিভাগ হবে না। কারণ কুমিল্লায় খন্দকার মোশতাক আছে। এখন কেন কুমিল্লা বিভাগ হবে না? কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? কী কারণে একটি অঞ্চলকে বঞ্চিত করা হবে?’
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই সরকার জনগণকে যে কথা দিয়েছিল, সেই কথা রাখেনি। তাই দাবি আদায়ের প্রস্তুতি নিন। আমরা আশাবাদী, আমরা আস্থাশীল। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য সব দাবি আদায় করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে যাব। এরপর ঢাকায় লংমার্চ হবে। ঢাকায় যেতে প্রয়োজনে চিড়া-মুড়ি নিয়ে যাব। চিড়া-মুড়ি নিয়ে আপনারাও চলে আসবেন।’
লংমার্চে বাধা দেওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা খবর পাচ্ছিলাম, রাস্তায় কেউ বাধা দেবে। রাস্তায় বাধা দিলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাব। আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাবই।’
১১ দলীয় জোটের নেতাদের বক্তব্যে সরকারবিরোধী কর্মসূচি আরও জোরদার করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ৬ দফা দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।










Design and Development by : webnewsdesign.com