
যেভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে এগিয়ে যাবেন
যেভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে এগিয়ে যাবেন
আল্লাহর পথে দান করার সামর্থ্য না থাকায় একবার কয়েকজন সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিজেদের আক্ষেপের কথা তুলে ধরলেন। তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদের অধিকারীরা তো সব সওয়াব নিয়ে গেল। তারা আমাদের মতো নামাজ পড়ে, আমরা যেমন রোজা রাখি তারাও তেমন রোজা রাখে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সদকা করে।’
সাহাবিদের এই আক্ষেপের জবাবে মহানবী (সা.) এমন কিছু আমলের কথা জানালেন, যার জন্য অর্থ-সম্পদের প্রয়োজন নেই; অথচ এগুলোও সদকার মর্যাদা লাভ করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন কিছু রাখেননি, যা তোমরা সদকা করতে পার? নিশ্চয়ই প্রত্যেক তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) একটি সদকা, প্রত্যেক তাকবির (আল্লাহু আকবার) একটি সদকা, প্রত্যেক তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) একটি সদকা এবং প্রত্যেক তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) একটি সদকা।
সৎ কাজের আদেশ করা একটি সদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও একটি সদকা। এমনকি তোমাদের কারো স্ত্রী-সহবাসেও সদকা রয়েছে।’
সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ নিজের যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেও কি সওয়াব পাবে?’
তিনি বলেন, ‘তোমরা কি মনে করো, সে যদি তা হারাম পন্থায় পূরণ করত, তাহলে কি তার গুনাহ হতো না? অনুরূপভাবে, সে যখন তা হালাল পন্থায় পূরণ করে, তখন তার জন্য সওয়াব রয়েছে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩২৯)
হাদিস থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়
১. সাহাবিদের নেক আমলের প্রতি গভীর আগ্রহ
সাহাবায়ে কেরামের ঈমান ও নেক আমলের প্রতি আগ্রহ ছিল অত্যন্ত প্রবল। আল্লাহর পথে দান করার সামর্থ্য না থাকায় তারা আক্ষেপ করেছিলেন এবং কীভাবে অন্যদের মতো সওয়াব অর্জন করা যায়, তা জানতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।
২. ভালো নিয়তে বৈধ কাজও ইবাদত হয়
একজন মুমিনের নিয়ত তার সাধারণ কাজকেও ইবাদতে পরিণত করতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্কও সওয়াবের কাজ হতে পারে—যদি এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পালন, দাম্পত্য অধিকার আদায়, নেক সন্তান লাভের আশা এবং হারাম থেকে নিজেকে ও জীবনসঙ্গীকে রক্ষা করার নিয়ত থাকে।
৩. কিয়াসের বৈধতা
এই হাদিসে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিধান নির্ণয় বা কিয়াসের বৈধতার প্রমাণ রয়েছে। এটি অধিকাংশ আলেমের মত।
৪. জিকিরের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা
তাসবিহ, তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল—প্রতিটি জিকিরই সদকার মর্যাদা রাখে। একইভাবে সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সদকার অন্তর্ভুক্ত।
৫. ভালো নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম
একজন মুমিনের উচিত জীবনের বৈধ ও সাধারণ কাজগুলোও ভালো নিয়ত নিয়ে করা। এতে দৈনন্দিন কাজও ইবাদতে পরিণত হতে পারে এবং আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব পাওয়া সম্ভব।
৬. অস্পষ্ট বিষয়ে দলিল ও ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত
কোনো বিষয় মানুষের কাছে অস্পষ্ট হলে আলেম ও জ্ঞানীদের উচিত যথাসম্ভব সহজভাবে তার ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজন হলে দলিল তুলে ধরা।
৭. প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশ্ন করা বৈধ
যে বিষয় সম্পর্কে জানা নেই বা অস্পষ্টতা রয়েছে, তা জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করা বৈধ। তবে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে এবং এমন ব্যক্তির কাছেই প্রশ্ন করা উচিত, যিনি তা অপছন্দ করবেন না।
এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ শুধু অর্থ-সম্পদের মাধ্যমে নয়।
একটি ‘সুবহানাল্লাহ’, একটি ‘আলহামদুলিল্লাহ’, একটি ‘আল্লাহু আকবার’, ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দেওয়া কিংবা মন্দ কাজ থেকে কাউকে বিরত রাখাও হতে পারে আমাদের জন্য সদকা ও সওয়াবের কারণ। তাই সামর্থ্য কম হলেও নেক আমলের দরজা কোনো মুমিনের জন্য বন্ধ নয়।










Design and Development by : webnewsdesign.com