সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / প্রধান খবর
৩:৩৬ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুন

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুন

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মিজানুর রহমানের বাড়িতে লুটপাটের পর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরের ছবি প্রথম আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে গুঁড়িয়ে আগুন, লুটপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা ও তাঁদের সমর্থকেরা এই হামলায় জড়িত। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু) মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা এবং চারটি কক্ষে আগুন জ্বলছে।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পীর অভিযোগ, অসুস্থ শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকার সুযোগে প্রায় আড়াই শতাধিক লোক বুলডোজার দিয়ে তাঁদের ছয় কক্ষের পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলে। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান (পলাশ) এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার।

তিনি দাবি করেন, বাড়ি ভাঙার আগে রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। পরে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটিতে আগুন দিয়ে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মেহেরুন্নেছার ভাষ্য, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও করতে চাইলে তাঁদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে থাকা কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীদের ধাওয়ায় সরে যেতে বাধ্য হন।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ফাঁড়িতে মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, বৈধভাবে জমি কিনেই তিনি বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। কেন তাঁর বাড়ি ভেঙে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো কারণ জানেন না। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিরোধও ছিল না।

অন্যদিকে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শুক্রবারই ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন এবং ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না। বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে সাবেক বিএনপি সভাপতি মনির খন্দকার দাবি করেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। যদিও প্রশাসনের পরিবর্তে নিজেরা কেন বাড়ি ভাঙলেন—এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি প্রশাসনকে ব্যবহার করেনি এবং ৫ আগস্টের পরও তারা বাড়িটি ভাঙেননি।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গভীর রাতে বাড়িতে আগুন দেয় এবং খননযন্ত্র দিয়ে বাড়ির একটি অংশ ভেঙে ফেলে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অনেকেই মুখ খুলতে চাননি। তিনি পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম