
সহবাস, স্বপ্নদোষ, ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত এবং নারীদের হায়েজ-নেফাস শেষ হলে গোসল ফরজ হয়ে যায়। ইসলামে ফরজ গোসল যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—গোসলের আগে কি রান্নাবান্না, গৃহস্থালির কাজ বা সন্তানকে দুধ পান করানো যাবে?
ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
গোসল ফরজ হলে কোন কাজগুলো করা যাবে না?
ফরজ গোসল বাকি থাকা অবস্থায় পাঁচটি কাজ নিষিদ্ধ। সেগুলো হলো—
নামাজ আদায় করা
কাবা শরিফে তাওয়াফ করা
মসজিদে অবস্থান করা
পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা
কুরআন তিলাওয়াত করা
এ ছাড়া অন্যান্য সাধারণ কাজ করার ওপর শরিয়তে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
গোসলের আগে ঘরের কাজ করা কি বৈধ?
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো নারী যদি সহবাসের পর ফরজ গোসল করার আগে রান্নাবান্না করেন, গৃহস্থালির অন্যান্য কাজ করেন কিংবা সন্তানকে দুধ পান করান, তাহলে তা শরিয়ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ (জায়েজ)। এসব কাজের কারণে কোনো গুনাহ হবে না।
তিনি আরও বলেন, সমাজে অনেক সময় নারীদের ওপর এমন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যার শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই। একই বিষয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে আবার এমন কঠোরতা দেখা যায় না। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব থেকেই অনেক ভুল ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
হাদিসে কী বলা হয়েছে?
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি জানাবাতের অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে নিজেকে নাপাক মনে করে সরে যান এবং পরে গোসল করে ফিরে আসেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কারণ জানান। জবাবে নবী করিম (সা.) বলেন,
“সুবহানাল্লাহ! মুমিন কখনো নাপাক হয় না।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৯)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জানাবাতের কারণে একজন মুমিনের ব্যক্তি-সত্তা অপবিত্র হয়ে যায় না; বরং এটি এমন একটি অবস্থা, যার কারণে নির্দিষ্ট কিছু ইবাদতের আগে গোসল করা আবশ্যক।
গোসলের আগে অজু করার পরামর্শ
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাবাতের অবস্থায় খাবার খেতে বা ঘুমাতে চাইলে নামাজের অজুর মতো অজু করে নিতেন।
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০৫)
এ কারণে আলেমরা বলেন, ফরজ গোসল দেরি হলে আগে অজু করে নেওয়া উত্তম। তবে কোনো কারণে অজু না করেও যদি নিষিদ্ধ পাঁচটি কাজ ছাড়া অন্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়, তাহলে তাতে গুনাহ হবে না।
উপসংহার
ইসলামে ফরজ গোসল যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করাই উত্তম। তবে গোসলের আগে রান্নাবান্না, গৃহস্থালির কাজ, সন্তানকে দুধ পান করানোসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করা বৈধ। কেবল শরিয়তে নিষিদ্ধ পাঁচটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তাই ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার পরিবর্তে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক জ্ঞান অনুসরণ করাই একজন মুসলিমের জন্য সর্বোত্তম পথ।












Design and Development by : webnewsdesign.com