
নিচে তথ্যগুলো সংবাদধর্মী, নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাষায় সম্পাদনা করে উপস্থাপন করা হলো। এমন দাবিগুলোকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং নিশ্চিত তথ্য ও অভিযোগ আলাদা রাখা হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও: এআই দাবি থেকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, নতুন বিতর্ক
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমদিকে দলীয় মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স জানায়, তাদের বিশ্লেষণে ভিডিওটি এআই-নির্মিত নয়।
এদিকে লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওটি রাজধানীর মগবাজারের একটি অফিসে ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী মরিয়ম বেগম তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুলাই ২০২৬। তিনি দাবি করেন, সেদিন তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। পরে তারা কক্ষে ঢুকে পরিচয় জানতে চেয়ে হেনস্তা করে এবং একপর্যায়ে তাঁদের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি দাবি করেন, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অর্থ দেওয়ার পর তাঁরা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।
এর আগে সোমবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওর বিভিন্ন অংশে তাঁদের কথোপকথন ও ঘনিষ্ঠ অবস্থানও দৃশ্যমান। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ একাধিক পোস্টে দাবি করে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া প্রচারণা।
তবে পরবর্তী বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল্লাহ সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। তিনি আরও দাবি করেন, মাসুম বিল্লাহর পরিবারের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর আত্মীয়দের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের জের ধরেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সংসদ সদস্যের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা অর্থ না দিলে সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণভাবে ভিডিও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তিনি ঘটনাটিকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং চরিত্রহননের অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো বাকি রয়েছে।











Design and Development by : webnewsdesign.com