সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক
১০:৫১ পিএম, ২০ জুলাই ২০২৬

জুলাই দখলের আন্দোলন জমে উঠেছে কলকাতায়

জুলাই দখলের আন্দোলন জমে উঠেছে কলকাতায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

২১ জুলাই আসলে কার? কলকাতায় শুরু ‘জুলাই দখলের’ লড়াই

২১ জুলাই—এই দিনটি আসলে কার? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। পুরো জুলাই মাস নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর লড়াই এখন শুধুই ২১ জুলাইকে ঘিরে। তবে এই লড়াই সাধারণ মানুষের নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর।

২১ জুলাইয়ের উত্তরাধিকার নিজেদের বলে প্রতিষ্ঠা করতে মাঠে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (আসল-ঋতব্রত), তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট-মমতা) এবং এনসিপিআই। ফলে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন ১৯৯৩ সালের সেই ঘটনার শহিদ পরিবারের সদস্যরা। কোন দলের অনুষ্ঠানে যাবেন, আর কোনটি এড়িয়ে চলবেন—এমন দ্বিধায় অনেকেই জনসম্মুখ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

কী ঘটেছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই?

আজ থেকে ৩২ বছর আগে, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। তখন যুব কংগ্রেস নেত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের জন্য সচিত্র পরিচয়পত্র (ফটো আইডি) বাধ্যতামূলক করার দাবিতে তিনি ‘মহাকরণ অভিযান’-এর ডাক দেন।

সকাল থেকেই কলকাতার পাঁচটি স্থান থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক মিছিল নিয়ে মহাকরণের দিকে রওনা হন। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে ছিলেন সৌগত রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মদন মিত্রসহ তৎকালীন যুব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।

কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়?

মহাকরণের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই পাঁচ দিক থেকে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশি বাধা ভাঙার চেষ্টা করলে শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। মেয়ো রোড ও রেড রোড মোড়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। কোথাও কোথাও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে গোটা কলকাতায়।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কয়েকটি জায়গায় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। সেই গুলিতে প্রাণ হারান ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী। এই ঘটনাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ২১ জুলাইকে একটি ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত দিনে পরিণত করে।

কীভাবে ২১ জুলাইয়ের মালিকানা বদলালো?

এই ঘটনার পর প্রতি বছর কংগ্রেসের ব্যানারে ‘২১ জুলাই শহিদ দিবস’ পালন করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তিনি গঠন করেন তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিও চলে যায় তৃণমূলের হাতে। ধীরে ধীরে এই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২১ জুলাইকে আরও বড় পরিসরে পালন করতে শুরু করে। প্রতি বছর লাখো মানুষের সমাগমে এটি রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক আয়োজন হয়ে ওঠে।

২০২৬-এ নতুন বাস্তবতা

তবে ২০২৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। যে ২১ জুলাই এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ ছিল, সেটি এখন একাধিক রাজনৈতিক দলের দাবির কেন্দ্রে। ফলে দিনটি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

এখন প্রশ্ন একটাই—২১ জুলাইয়ের প্রকৃত উত্তরাধিকারী কে? কংগ্রেস, তৃণমূল, নাকি সেই ১৩ শহিদের স্মৃতিই এই দিনটির প্রকৃত পরিচয়? এই বিতর্কই এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম