
গাজী নজরুল ইসলাম ছবি: এমপির ফেসবুক থেকে নেওয়া
তরুণীর বাবাকে কোটিপতি বানানোর আশ্বাস, ঠিকাদারি লাইসেন্স ও সরকারি কাজের প্রলোভন—গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত ভিডিও বিতর্কে এবার সামনে এসেছে নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও আত্মীয় ওবায়দুর রহমান দাবি করেছেন, এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গোপন রাখতে মেয়েটির বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেওয়া, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কোটিপতি বানানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন গাজী নজরুল।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রথম আলোর সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে ওবায়দুর রহমান এসব দাবি করেন। তিনি এরই মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলাও করেছেন।
‘টাকার লোভে পরিবার আপত্তি করেনি’
ওবায়দুর রহমানের দাবি, মেয়েটির সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি তিনি জানতে পেরে পরিবারের সামনে তুলেছিলেন। কিন্তু টাকার লোভে মেয়েটির মা–বাবা বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন।
তাঁর ভাষ্য, মেয়েটির বাবা মাসুম বিল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন, “এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।”
ঠিকাদারি লাইসেন্স, সরকারি টেন্ডার ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
ওবায়দুরের দাবি, সংসদ সদস্য হওয়ার কিছুদিন পরই মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল।
তিনি বলেন, মাসুম বিল্লাহ ঠিকাদারির কাজ বুঝতেন না। দরপত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো বিষয়টি তাকেই দেখাশোনা করতে হতো। তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে এলজিইডি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মোট পাঁচটি সরকারি কাজের জন্য দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।
আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁদের অনুকূল একজন প্রকৌশলীকে বদলি করে আনতেও গাজী নজরুল তদবির করেছিলেন, যাতে সরকারি কাজ পাওয়া সহজ হয়।

তরুণীকে চাকরি, বাবাকে বড় কাজের প্রতিশ্রুতি
ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, তরুণীকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর বাবাকে বড় বড় সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তাঁর দাবি, এসব প্রলোভনের মাধ্যমেই সম্পর্কটি নিয়ে পরিবারের নীরবতা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
‘মুখ বন্ধ রাখতে গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব’
ওবায়দুরের দাবি, গত ২০ জুন এমপি হোস্টেলে গিয়ে তিনি গাজী নজরুলের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁকে ‘মুতআ বিয়ে’-এর ফতোয়া দিয়ে সম্পর্কটিকে বৈধ বলে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।
এরপর তাঁকে একটি গাড়ি ব্যবহার করার সুযোগ, আয় করার সুবিধা এবং এমপির এপিএস-২ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলেন।
ভিডিও বিতর্ক থেকে মামলা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।
অন্যদিকে, ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, ভাগনির সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহ করেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
গাজী নজরুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ওবায়দুর রহমানের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে মেয়েটির বাবা মাসুম বিল্লাহর ফোনও বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
তরুণীর পাল্টা দাবি

ভিডিও প্রকাশের পর ওই তরুণী একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়েতে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে তাঁর বাবার অফিসে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয় এবং পরে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগও করেন।
উল্লেখ্য, ওবায়দুর রহমানের আনা অভিযোগগুলো তাঁর ব্যক্তিগত দাবি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং অভিযুক্ত পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।











Design and Development by : webnewsdesign.com