সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / জাতীয়
১০:৪৫ এএম, ৮ আগস্ট ২০২৬

লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

বরিশালের উজিরপুরে বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষা। আবেদন গেছে, দাবি উঠেছে, প্রতিশ্রুতিও মিলেছে—কিন্তু খালের ওপর ওঠেনি একটি পাকা সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে নির্মিত প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি অস্থায়ী সাঁকো লাল ফিতা কেটে, ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে ও মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত সাঁকোটির এমন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেন।

বৃহস্পতিবার (তারিখ) বিকেলে সেই সাঁকোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে ঘিরে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠান। উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন। এ সময় সাঁকোটি ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। পাশাপাশি ঢোল-বাদ্য ও বয়াতিদের গান-বাজনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী-পুরুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মিষ্টিও।

সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেকে ঘটনাটিকে ‘উন্নয়নের নামে লোকদেখানো প্রদর্শনী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রশ্ন, যোগাযোগের মতো একটি মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে বাঁশের তৈরি একটি অস্থায়ী সাঁকোকে এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের প্রয়োজন কতটা যৌক্তিক?

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকেই এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকো নির্মাণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে সাময়িকভাবে হলেও স্থানীয়দের চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে—এটি নিছক সমালোচনার বিষয় না হয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সাঁকো উদ্বোধনের বিষয়ে তার আগে থেকে কোনো প্রস্তুতির কথা জানা ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন। এ কারণে স্থানীয়রা নিজেরাই সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেন।’

শহিদুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা লাল ফিতা ধরে আমাকে সেটি কাটার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধেই আমি ফিতা কাটি। এর মধ্যেই স্থানীয়দের উদ্যোগে গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়।’

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, সাঁকো উদ্বোধনের পুরো আয়োজনই ছিল এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে। এতে তার পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো আয়োজন বা প্রস্তুতি ছিল না।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে উজিরপুর পৌর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিজেদের অর্থ ও শ্রমে নির্মিত অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে কতদিন চলতে হবে তাদের? সাময়িক এই উদ্যোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে সেখানে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার উদ্যোগ নেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম