
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, রায় কার্যকরের দাবি নাহিদ ইসলামের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা উচিত। তার দাবি, এ মামলায় আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।
বুধবার (১৫ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘স্মৃতিগাঁথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তিনি দেশে ফিরলেই আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সরকারও জানিয়েছে যে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তবে আপিলের বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে তার মতে কোনো আইনি সুযোগ অবশিষ্ট নেই। তিনি দাবি করেন, আদালতের রায় ঘোষণার পর নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো আপিল দায়ের করা হয়নি। তাই এখন সেই রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে আর আপিলের সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্ট পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
বক্তব্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও মত দেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। গবেষণাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও উপাচার্য নিয়োগে কার্যকর সংস্কারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই দিনের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার মতে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনার ওপরই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। তার ভাষায়, দেশকে আর স্বৈরতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না; বরং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহীন সরকার, যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।











Design and Development by : webnewsdesign.com