সম্পূর্ণ নিউজ Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ / প্রধান খবর
১:১১ এএম, ১৮ জুলাই ২০২৬

ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান

ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

‘ক্যান্টনমেন্টের ক্লিয়ারেন্সের পরই নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা দেন’—রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশের পরই নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা দেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, সম্প্রতি আব্দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের পর মাহফুজ আলম গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তবে সেখানে ছাত্রশিবিরের অবদানকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তার ভাষ্য, মাহফুজ আলম লিখেছেন—অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচির একটি খসড়া তিনি সাদিক কায়েমকে প্রস্তুত করতে বলেছিলেন, যা পরে আসিফ মাহমুদ পাঠ করেন। কিন্তু জামায়াতের মুখপত্র ‘সংগ্রাম’ এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন ওই রাতেই সাদিক কায়েম এক দফা ঘোষণার খসড়া তৈরি করেছিলেন এবং সেটিই আসিফ মাহমুদ পাঠ করেছিলেন।

রাশেদ খানের দাবি, বাস্তবে এক দফার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন নাহিদ ইসলাম, আর আসিফ মাহমুদ পাঠ করেছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা।

তিনি বলেন, “যার যতটুকু অবদান, ততটুকু কৃতিত্ব নেওয়ায় সমস্যা নেই। কিন্তু অতিরঞ্জিত করতে গেলেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”

রাশেদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম ‘সালমান’ পরিচয়ে কাজ করেছিলেন—এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। এখন অতিরিক্ত কৃতিত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে যদি ভিন্নভাবে ইতিহাস তুলে ধরা হয়, তাহলে তা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলমের আরেকটি বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন রাশেদ খান। সেখানে মাহফুজ লিখেছেন, ২ আগস্ট রাতে অনলাইনে এক দফা ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন তারা। বরং ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে জনসমক্ষে ঘোষণা দেওয়ার পক্ষেই ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতেই ঘোষণা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে চাপ ছিল।

এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ওই ‘নির্দিষ্ট মহল’ বলতে মাহফুজ আলম ক্যান্টনমেন্টকেই ইঙ্গিত করেছেন, যা এর আগে নাহিদ ইসলামও উল্লেখ করেছিলেন।

রাশেদ লেখেন, “আমি যদি বলি, সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা দিয়েছেন—তাহলে সেটি কি ভুল হবে?”

তার দাবি, ২ আগস্ট সেনাবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় এবং ৩ আগস্ট সেনাপ্রধান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালাবে না। এই অবস্থান আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন সাহস জুগিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদের মতে, ১ আগস্ট থেকেই সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, যার ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সংকেত তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, সেই সময় থেকেই অনেক মন্ত্রী-এমপি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে ক্যান্টনমেন্টেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আমি রূপক অর্থে বলতে চেয়েছি, সেনাবাহিনীর সেই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরই নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা দেন। এখানে যেমন নাহিদ ইসলামের ভূমিকা রয়েছে, তেমনি সেনাবাহিনীরও একটি ভূমিকা ছিল।”

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সম্মিলিত আন্দোলনের ফল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই আন্দোলন সফল হয়।

তার দাবি, এক দফার সিদ্ধান্তও ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। কারও অবদান বেশি, কারও কম হতে পারে; তবে কারও একক কৃতিত্ব হিসেবে পুরো ঘটনাকে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম ছিলেন না। সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কারণে সন্দেহের অবকাশ এড়াতেই তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে রাশেদ খান বলেন, আব্দুল কাদেরের বক্তব্য সত্য নাকি অসত্য—সে বিষয়ে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বকর, রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকারের মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও Sunnah TV Bangladesh সুন্নাহ টিভি বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

শিরোনাম