
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমদিকে একটি পক্ষ দাবি করে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, তাদের অনুসন্ধানে ভিডিওটি এআই-নির্মিত নয়।
পরে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিওতে থাকা নারী এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেও এক ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন এবং পুরো ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মগবাজারে একটি অফিসে তাঁকে ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি যে ভাড়াকৃত গাড়ি ব্যবহার করতেন, সেটিও ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির যোগসাজশে আটকে রেখে দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বের পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। তাঁর অভিযোগ, প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমপির দাবি, ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানান, গত ১৭ জুন ২০২৬ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এবং পারিবারিকভাবে মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচারের কোনো ভিত্তি নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা তাঁদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যদি তাঁর দাবি সত্য হয়ে থাকে, তবে তিনি কেন সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেননি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই তাঁর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থানও নিয়েছেন।
ফেসবুকে দিদারুল ইসলাম নিটন নামে একজন মন্তব্য করেন, “এআই বলে চালিয়ে দেওয়াতে সফল না হয়ে এখন দ্বিতীয় বড় গল্প নিয়ে এসেছে! এদের চরিত্র চমৎকার।”
বাবু আমদাদ নামে আরেকজন লেখেন, “এমপি সাহেব, আপনি টেনশন করবেন না। পুরুষ সবসময় মজলুম। কোনো কিন্তু ছাড়াই আমি আপনার পক্ষে আছি। আর একটা কথা, আপনার চয়েস কিন্তু বেশ ভালো।”
আবু বকর সিদ্দিক নামে একজন মন্তব্য করেন, “দাদু, সব কিছু ম্যানেজ করতে লেইট করে ফেলছেন। আর লেইট হওয়ারই কথা—প্রথমে স্ত্রী, দ্বিতীয়ত লুচ্চি, তৃতীয়ত লুচ্চির আব্বা। সব কিছুর পর দুইটা ফ্যামিলি ম্যানেজ করা তো আর এত সহজ নয়! শুভকামনা রইল চাচা।”
জাহিদুর রহমান নামে আরেকজন লেখেন, “আপনি এই বয়সে আপনার নাতির বয়সী একজন মেয়েকে কীভাবে বিয়ে করলেন? জনগণকে বিভ্রান্ত না করে সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এমপির অভিযোগ, ভিডিওটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ; অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্রের অনুসন্ধানী রিপোর্ট, টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট বা অনলাইন নিউজ স্টোরির ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।











Design and Development by : webnewsdesign.com